
মার্ক
জাকারবার্গ যদি তাঁর স্বপ্ন বুঝতে পারার ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে পারেন তবে
শিগগিরই হয়তো আমরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাজে লাগিয়ে বা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে
পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব। আর এই টেলিপ্যাথিই হতে পারে ফেসবুকের
ভবিষ্যৎ। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ অন্তত তাই মনে করছেন।
ভবিষ্যতে আপনি যে চিন্তা করবেন হয়তো সেটিই ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে
হালনাগাদ হয়ে যাবে।
জাকারবার্গ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একদিন আমাদের সব চিন্তা-ভাবনা
প্রযুক্তির সাহায্যে একে অন্যের কাছে সরাসরি স্থানান্তর করতে পারব। কেউ
কোনো কিছু চিন্তা করে সেটি শেয়ার করতে চাইলে তাঁর বন্ধুরা সে চিন্তাটির
তৎক্ষণাৎ অভিজ্ঞতা লাভ করবে। ভবিষ্যতের যোগাযোগ পদ্ধতি এ রকমই হবে।’
ফেসবুকের
৩১ বছর বয়সী প্রধান নির্বাহী সম্প্রতি এক প্রশ্নোত্তর ফোরামে বলেছেন, ‘আমি
বিশ্বাস করি একদিন আমাদের পরিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ ভাবনা প্রযুক্তির মাধ্যমে
পরস্পরের সঙ্গে বিনিময় করতে পারব।’
জাকারবার্গের এই মন্তব্য মিশ্র
প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকেই একে বাজে ধারণা বলেছেন আবার অনেকেই একে
ফেসবুকের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন। ফেসবুকের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষার
ক্ষেত্রে জাকারবার্গের এই মন্তব্য প্রতীক স্বরূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত
দশক ধরে, শুধু সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট হিসেবে
আটকে থাকেনি ফেসবুক। নতুন নতুন ফিচার যোগ করে এটি মানুষের কাছে অপরিহার্য
করে তুলেছে।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে ফেসবুক এর সেবা পরিধি সামাজিকতার
ক্ষেত্র বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে। ওই সময় ‘ফেসবুক
অ্যাট ওয়ার্ক’ সেবা চালু করে ফেসবুক যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা
ফেসবুকের মাধমে নিজেদের মধ্যে কাজের যোগাযোগও করতে পারে।
এ ছাড়াও,
ফেসবুকের সেবার সঙ্গে ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশন, গ্রুপ ফিচার, অনলাইন
পেমেন্ট, ফেসবুকে কেনাকাটার মতো নানা সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

ফেসবুকের
নজর পড়ছে খবরের দিকেও। সম্প্রতি ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলস নামের একটি সেবার
ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক যাতে সংবাদমাধ্যমগুলো লিংক শেয়ারের পরিবর্তে সরাসরি
ফেসবুকের অ্যাপে কনটেন্ট শেয়ার করতে পারবে। ভিডিওকে গুরুত্ব দিতেও নানা
উদ্যোগ নিয়েছে ফেসবুক।
শুধু সফটওয়্যার নয়, ফেসবুক গুরুত্ব দিচ্ছে হার্ডওয়্যারের প্রতিও। সম্প্রতি ভারচুয়াল রিয়েলিটি যন্ত্র নির্মাতা অকুলাস কিনেছে ফেসবুক।
নতুন
নতুন উদ্ভাবন নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে ফেসবুক। এ রকমই একটি উদ্ভাবন হচ্ছে—
ইন্টারনেট ডট ওআরজি উদ্যোগ, যা আগামী দশকের মধ্যেই ইন্টারনেট সুবিধাবঞ্চিত
কোটি মানুষকে ইন্টারনেট সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ ছাড়াও
সম্প্রতি ড্রোন ও স্যাটেলাইট থেকে লেজার রশ্মির মাধ্যমে ওয়াই-ফাই সুবিধা
দেওয়ার প্রকল্প নিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন জাকারবার্গ। এই প্রকল্পগুলো সফল
হলে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের জীবন পাল্টে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে,
সামাজিক মূলধনের ওপর দারুণ এক কাজ করছে ফেসবুক। সবচেয়ে জনহিতকর দিক
বিবেচনা করলে, মানুষকে সংযোগের আওতায় আনা মানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যে
অবদান বাড়ে তা অনস্বীকার্য। কিন্তু এই সংযোগের সঙ্গে মানুষের খুব কাছে চলে
যেতে পারছে ফেসবুক। এতে ফেসবুকের গ্রাহক আরও নিশ্চিতভাবে বাড়ছে।
ইন্টারনেট
ডট অর্গের পাশাপাশি জাকারবার্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ভারচুয়াল
রিয়েলিটিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং ফেসবুকের ভবিষ্যৎ থিম হিসেবে নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা
বলছেন, আমাদের জীবনে সঙ্গে যতটা আষ্টেপৃষ্ঠে ফেসবুক জড়িয়ে যাবে, যতটা
ক্ষেত্র ফেসবুক দখল করে আমাদের সময় নষ্ট করাতে পারবে ফেসবুকের লাভ ততই
বাড়বে। আমাদের সম্পর্কে ফেসবুকের কাছে তত বেশি তথ্য থাকবে এবং আমাদের কাছ
থেকে ফেসবুক তত বেশি লাভ বুঝে নেবে।
এ বছরের প্রথম তিন মাসে ফেসবুক
ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে প্রকাশ করা বিজ্ঞাপন থেকে আয় ছিল ৩৫৪ কোটি
মার্কিন ডলার। এখন ফেসবুক শুধু আর ফেসবুক ট্র্যাকিং করে বিজ্ঞাপন দেবে না
বরং অন্য মোবাইল অ্যাপের তথ্যও সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখানোর
পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ফেসবুকের এসব বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের গা সওয়া হয়ে
গেছে কারণ ফেসবুকের নানা ফিচার বিনা মূল্যে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের
বিজ্ঞাপন অভিজ্ঞতাকে মেনে নিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
কিন্তু যদি টেলিপ্যাথি
সম্ভব হয়? তখন বিজ্ঞাপন দেখানোর বিষয়টিও নিশ্চয়ই আলাদা হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ
নতুন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা চলে আসবে আমাদের সামনে।
Source : প্রথম আলো