আপডেট
Showing posts with label উবুন্টু. Show all posts
Showing posts with label উবুন্টু. Show all posts

Sunday, July 5, 2015

বাংলা লিখুন আপনার উবুন্টু-১৪.০৪ ভার্শনে


বাংলা লেখার জন্য আপনার উবুন্টুতে ইন্সটল করুন অভ্র। অভ্র অনেক জনপ্রিয় একটি মাধ্যম বাংলা লেখার জন্য। আপনার উবুন্টু-১৪.০৪ ভার্শনে অভ্র ডাউনলোড এনং ইন্সটলের জন্য নিচের কমান্ডগুলো ব্যাবহার করুন।

১ম ধাপঃ 

sudo add-apt-repository "deb http://download.opensuse.org/repositories/home:/sarimkhan/xUbuntu_14.04/ ./"


২য় ধাপঃ

কি এড করুন নিচের কমান্ড লিখে

 wget -q http://download.opensuse.org/repositories/home:/sarimkhan/xUbuntu_14.04/Release.key -O- | sudo apt-key add -


৩য় ধাপঃ 

আপডেট করুন আপনার প্যাকেজ লিস্ট নিচের কমান্ডের মাধ্যমে

  sudo apt-get update


৪র্থ ধাপঃ 

এখন ইন্সটল করুন অভ্র নিচের কমান্ডের মাধ্যমে 

 sudo apt-get install ibus-avro-trusty 

৫ম ধাপঃ 

এখন আপনার টার্মিনালটি বন্ধ করুন এবং কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।

ব্যাবহারঃ 

 IM মেন্যুবারে ক্লিক করুন এবং Text entry Settings সিলেক্ট করুন 

Text Entry Settings-এ গিয়ে প্লাস (+) আইকনে ক্লিক করুন এবং সার্চ অপশনে avro লিখুন। এখন Bengali ( Avro Phonetic) সিলেক্ট করুন। 



এখন বাংলা লিখুন যেখানে ইচ্ছে। 



আনস্টলের উপায়ঃ 

প্রথমে Text Entry Settings ওপেন করুন এবং Avro Phonetic রিমুভ করুন মাইনাসে ক্লিক করে। এরপর নিচের কমান্ডটি টার্মিনালে লিখুন।

 sudo apt-get remove ibus-avro-trusty

Tuesday, February 10, 2015

ধাপে ধাপে উবুন্টু ইন্সটলেশান (তিনটি পার্টিশান করে, ডুয়েল বুট) এবং ট্রাবলশুটিং

+
উবুন্টু ইন্সটলের জন্য প্রথমেই একটা বুটেবল পেনড্রাইভ বা সিডি বানিয়ে নিন। বুটেবল সিডি বানাবার পদ্ধতি  এখানে গিয়ে দেখতে পারেন।
উইন্ডোজ দিয়ে বুটেবল পেনড্রাইভ বানাবার জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
১।  এখান থেকে lili usb creator ডাউনলড করে ইন্সটল দিন।
২। স্টার্ট মেনু থেকে lili usb creator চালু করুন।
৩। dropdown মেনু থেকে আপনার পেনড্রাইভ সিলেক্ট করুন।
৪। iso/img এ ক্লিক করে আপনার ডাউনলোড করা আইএসও তা সিলেক্ট করুন।
৫। persistence কতখানি হবে দেখিয়ে দিন। (optional) যেহেতু আমরা শুধু উবুন্টু ইন্সটল দিব তাই persistence 0 রেখে দিন।
৬। "hide created files on key" -> disable করুন, "format the key in fat32" -> enable করুন, "enable launching linuxlive in windows" -> disable করুন।
৭। এরপর lightning icon টায় ক্লিক করুন... বুটেবল করা শুরু হবে... সব ঠিক ঠাক থাকলে লেখা দেখাবে।
এবার আপনার পেনড্রাইভ/সিডি দিয়ে পিসি বুট করুন। এরপর যা করতে হবে তা  এই টিউটোরিয়াল দেখে করে ফেলুন।
ট্রাবলশুটিংঃ ওই টিউটোরিয়াল অনুযায়ী ইন্সটল করার সময় কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। তারমদ্ধে কিছু সমস্যার সমাধান নিচে দেয়া হলওঃ
unusable স্পেসঃ

screenshot:


উবুন্টু ইন্সটলের সময় এইরকম কিছু দেখালে বুঝতে হবে আপনার হার্ডডিস্কে অনেক বেশি পরিমাণ পার্টিশন তৈরি করা আছে। তাই আর নতুন পার্টিশন তৈরি করা যাবে না। এই অবস্থায় ২ টা জিনিস করা জায়ঃ
১। আপনার হার্ডডিস্কের একটা ড্রাইভের সব ফাইল অন্য ড্রাইভ গুলোতে ব্যাকআপ নিয়ে ড্রাইভটাকে ডিলেট করে দেয়া। এরপর যে ফ্রি স্পেস হবে তা অন্য ড্রাইভে জগ করে দেয়া।
২। যদি আপনার একটা পার্টিশন করার সুযোগ থাকে তাহলে শুধু রুট পার্টিশন তৈরি করুন, যদি ২ তা পার্টিশন তৈরি করার সুযোগ থাকে তাহলে রুট, সোয়াপ পার্টিশন তৈরি করুন। আর যদি একটাও নতুন পার্টিশন করার উপায় না থাকে তাহলে ১ নাম্বার উপায়টাই অবলম্বন করতে হবে। তবে একটাও পার্টিশন তৈরি করা যাবেনা এমন হবার কথা না। কারণ আপনি ইন্সটলের সময় আগেই একটা পার্টিশন কে ডিলেত করে দিয়েছেন।
একাধিক free space দেখানোঃ

screenshot:


মাঝে মদ্ধে ইন্সটলের সময় ড্রাইভ ফরম্যাট করলে ১ টার বেশি free space দেখায়। এরকম হলে back এ ক্লিক করে নতুন করে আবার something else দিয়ে শুরু থেকে কাজ শুরু করুন।

screenshot:


মাঝে মদ্ধে দেখা যায় something else দিলে কোন পার্টিশন দেখা যায় না। শুধু একটা পার্টিশন ছাড়া স্পেস দেখায়। এরকম হলে নিচের কমান্ড টা টার্মিনালে রান করে দেখতে পারেন।
sudo fixparts /dev/sdX

যেই হার্ডডিস্কে প্রব্লেম হচ্ছে সেই অনুযায়ী X ঠিক করে নিবেন। স্ক্রিনশটে দেখাচ্ছে /dev/sda তে সমস্যা। তাই আমি sudo fixparts /dev/sda কমান্ড দিব।

আরও কোন সমস্যা থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। সলিউসন জানা থাকলে তাও দিয়ে দিবেন :)

লিনাক্স কোন অপারেটিং সিস্টেম না


কী ভড়কে গেলেন?
এতদিন সবখানে পড়ে এসেছেন, জেনে এসেছেন, শুনে এসেছেন যে উইন্ডোজের মত
লিনাক্সও একটা অপারেটিং সিস্টেম; আর আজকে আমার মত এক চুনোপুটি কিনা বলছে
যে লিনাক্স কোন অপারেটিং সিস্টেম না! আসলেই ব্যাপারটা তাই।

লিনাক্স কোন অপারেটিং সিস্টেম না। প্রত্যেকটা অপারেটিং সিস্টেমের একটা
“প্রাণ ভোমরা” থাকে যা কিনা ঐ অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশ। লিনাক্স হচ্ছে
সেই “প্রাণ ভোমরা”। এই প্রাণ ভোমরাকে বলা হয় “কার্নেল“, যা কিনা কোন
অপারেটিং সিস্টেমের কেন্দ্রীয় অংশ, যা বিভিন্ন এ্যাপ্লিকেশন ও
হার্ডওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং যাকে
ছাড়া কোন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ লিনাক্স হচ্ছে আসলে
কার্নেল। প্রত্যেকটা অপারেটিং সিস্টেমেই এই কার্নেল জিনিসটা থাকে। উইন্ডোজ
বা ম্যাকেও কার্নেল আছে। উইন্ডোজ এক্সপি, ভিসতা বা সেভেনের কার্নেলের নাম
এনটি (NT); ম্যাক ওএস এর কার্নেলের নাম এক্সএনইউ (XNU)। কার্নেলের সাথে
বিভিন্ন এ্যাপ্লিকেশন ও প্রোগ্রাম যোগ করে বানানো হয় অপারেটিং সিস্টেম। সহজ
ভাষায় বললে,

কার্নেল + (এ্যাপ্লিকেশন, প্রোগ্রাম, সফটওয়ার ইত্যাদি) = অপারেটিং সিস্টেম

উইন্ডোজের কার্নেল বিনাপয়সায় পাওয়া তো যায়ই না এমনকি টাকা খরচ করলেও
মাইক্রোসফট থেকে পাওয়া যায়না। তাই কেউ ইচ্ছা করলেই উইন্ডোজের কার্নেলের
সাথে বিভিন্ন সফটওয়ার জুড়ে দিয়ে নিজের মত কোন অপারেটিং সিস্টেম বানাতে
পারেনা। ফলে মাইক্রোসফট ছাড়া আর কেউ উইন্ডোজ কার্নেলের উপর নির্মিত কোন
অপারেটিং সিস্টেম বানাতে পারেনা।

লিনাক্স কার্নেল বিনা পয়সায় পাওয়া যায়, তাই যে কেউ সেটার সাথে বিভিন্ন
প্রোগ্রাম জুড়ে দিয়ে একটা অপারেটিং সিস্টেম বানাতে পারে। শুধু তাই না
ইচ্ছা করলে সেই কার্নেলকে আপনি আপনার মত পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে
পারবেন। তাই দেখা যায় বিভিন্ন ব্যাক্তি/কম্পানি লিনাক্স কার্নেল দিয়ে
নিজেদের মত করে অপারেটিং সিস্টেম বানায়। যেমন রেড হ্যাট কোম্পানি লিনাক্স
কার্নেল ব্যবহার করে যে অপারেটিং সিস্টেম বানায় সেটার নাম রেডহ্যাট
লিনাক্স। ক্যানোনিকাল লিনাক্স ব্যবহার করে যে অপারেটিং সিস্টেম বানায় তার
নাম উবুন্টু। নভেল লিনাক্স দিয়ে বানায় স্যুযে। লিনাক্সের উপর নির্ভর করে
বানানো এরকম আরো অনেক অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যায়। রেডহ্যাট, উবুন্টু বা
স্যুযে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম। এদের
মধ্যে মিল হচ্ছে এদের কার্নেলটা একই, সেটা হল লিনাক্স। তাই এসব অপারেটিং
সিস্টেমকে বলা হয় “লিনাক্স-বেজড অপারেটিং সিস্টেম”, তবে সংক্ষেপে এদেরকে
সাধারণভাবে “লিনাক্স”ও বলা হয়ে থাকে। তাই লিনাক্স দিয়ে আসলে কোন অপারেটিং
সিস্টেমকে বোঝায়না বরং একধরনের বিশেষ অপারেটিং সিস্টেমের গ্রুপকে বোঝায়
যাদের কার্নেলের উৎস একই। অনেক সময় এদেরকে “লিনাক্স ডিস্ট্রো”ও বলা হয়।
কারণ লিনাক্স বেজড অপারেটিং সিস্টেমগুলো সাধারণত ফুল-প্যাকড হয়েই আসে,
অর্থাৎ লেখালেখি করার জন্য সম্পূর্ণ অফিস স্যুট, আঁকাআঁকি করার সফটওয়ার,
অডিও-ভিডিও সফটওয়ারসহ একজন ব্যবহারকারির দরকারী প্রায় সব সফটওয়ারই আগে
থেকেই প্যাকড হয়ে আসে, ফলে উইন্ডোজের মত অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করার পর
লেখালেখি করার জন্য এমএসঅফিস ইন্সটল করতে হয়না। তাছাড়া অনেকগুলো লিনাক্স
বেজড অপারেটিং সিস্টেম আবার নির্দিষ্ট ধরনের কোন ব্যবহারকারীর চাহিদামত
সফটওয়ার যুক্ত করে বানানো হয় যেমন সায়েন্টিফিক লিনাক্স, ফেডোরা
ইলেক্ট্রনিক ল্যাব ইত্যাদি। নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে কাদেরকে লক্ষ্য করে
এগুলো বানানো হয়েছে। তাই লিনাক্স-বেজড অপারেটিং সিস্টেমগুলোকে “লিনাক্স
ডিস্ট্রিবিউশন” বা “লিনাক্স ডিস্ট্রো” বা সংক্ষেপে শুধু “ডিস্ট্রো” বলা
হয়ে থাকে।


লিনাক্সভিত্তিক এই অপারেটিং সিস্টেমের সবগুলোই কিন্তু উবুন্টুর মত
একেবারে ফ্রি বা বিনাপয়সায় পাওয়া যায়না। যেমন রেডহ্যাট লিনাক্স ও স্যুযের
কথাই ধরা যাক- এগুলো কিন্তু টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তবে হোম ইউজারদের জন্য
রেডহ্যাট লিনাক্সের একটা বিনাপয়সার ভার্সন আছে- তার নাম ফেডোরা। সাধারণত
রেডহ্যাট কোম্পানী তাদের রেডহ্যাট লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের জন্য
ফেডোরাকে টেস্টবেড হিসেবে ব্যবহার করে। এর মানে হচ্ছে রেডহ্যাট কম্পানি
নতুন নতুন সফটওয়্যারগুলো প্রথমেই রেডহ্যাট লিনাক্সে না দিয়ে আগে ফেডোরাতে
দেয়, তারপর ব্যবহারকারিদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ-মতামতের ভিত্তিতে পরে
রেডহ্যাট লিনাক্সে সেগুলোকে যোগ করা হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ফেডোরা হচ্ছে
অনেকটা গিনিপিগের মত, যার উপর বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়ে স্বিদ্ধান্ত নেয়া হয়
যে রেডহ্যাট লিনাক্সকে কিভাবে কি করা হবে। রেডহ্যাটলিনাক্স ও ফেডোরা একই
কম্পানির তৈরি হলেও এরা দুটি ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম। ঠিক একইভাবে নভেল
কম্পানির ক্ষেত্রে স্যুযের টেস্টবেড ভার্সন ওপেন স্যুযে বিনাপয়সায়
ব্যবহারের জন্য পাওয়া যায়।

Saturday, January 31, 2015

Install or upgrade Java JRE/JDK latest version in Ubuntu via PPA

If you really need to use Oracle (ex Sun) Java instead of OpenJDK in Ubuntu, here's a PPA repository to install and keep your computer up to date with the latest Oracle Java 7 JDK (which includes JRE).

Oracle JDK7 itself is not hosted in the PPA because that's not allowed by the new Java license. The package in the PPA automatically downloads and installs Oracle Java JDK 7 from its official website and installs it on your computer, just like the flashplugin-installer package does. It supports Ubuntu 12.04, 11.10, 11.04 and 10.04.

1.To add PPA use the commands below:
sudo add-apt-repository ppa:webupd8team/java
sudo apt-get update
sudo apt-get install oracle-jdk7-installer oracle-java7-set-default

2.After the installation finishes, if you wish to see if it was successful, you can run the following command:
java -version

It should return something like this:
java version "1.7.0_04"
Java(TM) SE Runtime Environment (build 1.7.0_04-b20)
Java HotSpot(TM) Server VM (build 23.0-b21, mixed mode)

3.If for some reason, the Java version in use is not 1.7.0, run the following command:
sudo update-java-alternatives -s java-7-oracle

Run step 2 & check again.

Saturday, January 24, 2015

উবুন্টুর কথা

একদশক আগেও লিনাক্সের নাম শুনলে চোখের
সামনে ভেসে উঠত এক লোকের ছবি যে কিনা মোটা চশমার ফাঁক দিয়ে কম্পিউটারের
কালো স্ক্রিনে কঠিন কঠিন কোড খটাখট করে করে লিখে যাচ্ছে পরমানন্দে। জন্মের
পর থেকেই লিনাক্স এই জাতীয় গিকদের সাথে এমনভাবে সেঁটে গেছে যে একে আলাদা
করার চিন্তা কারো মাথায় আসেনি। তাই সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারি যারা
কিনা নন-গিক তাদের কথা তেমনভাবে কখনোই চিন্তা করা হয়নি, ফলে ডেস্কটপের
জন্য সাবলীল কোন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম তেমনভাবে আসেনি।


পরবর্তী সময়ে ডেবিয়ান, ম্যানড্রিভা, স্ল্যাকওয়ার বা রেডহ্যাটের
ফেডোরা ডেস্কটপের জন্য লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বানানো শুরু
করলেও পুরোপুরি গ্রাফিকাল ইন্টারফেস না হওয়ায় সেগুলো সেভাবে জনপ্রিয়
হয়ে উঠেনি। ফলে লোকজনের মধ্যে লিনাক্স-ভীতি সবসময়ই কাজ করত। এই ভীতিটাই
সাধারন মানুষকে লিনাক্স থেকে সবসময় একটা দেয়াল করে আড়াল করে রাখতো। সেই
ভীতিকেই একেবারে দূর করার আশ্বাস দিয়ে আটঘাট বেধে হাজির হল উবুন্টু।


“উবুন্টু” হল একটি দক্ষিন আফ্রিকান শব্দ, যার অর্থ হল “humanity to
others” বা “সবার জন্যই মানবতা”। অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুর লক্ষ্য হচ্ছে
মানুষ যাতে কম্পিউটারে বিনামূল্যে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে।
শুধু তাইনা, ওপেন সোর্সের মন্ত্রে উজ্জীবিত উবুন্টুও বিশ্বাস করে যে
কমপিউটার সফটওয়ার কারো কুক্ষিগত হতে পারেনা, সবাই স্বাধীনভাবে এটা
ব্যবহার করার অধিকার রাখে। সেজন্য উবুন্টু ব্যবহার করতে কোন টাকা পয়সা
দিতে হয়না এবং এই বিনেপয়সার উবুন্টু ব্যবহার করা পুরোপুরি বৈধ।


সবার সাফল্য আসে ধীরে ধীরে কিন্তু উবুন্টুর ক্ষেত্রে সেটা যেন খুব
তাড়াতাড়ি ঘটে গেল। ব্যবহার সহজ, সাবলীল ডেস্কটপ, দেখতে সুন্দর ইত্যাদি
কারনে ২০০৪ সালে মুক্তি পাবার দুই সপ্তাহের মাঝেই উবুন্টু মেইলিং লিস্টে
হাজার তিনেকের উপর ম্যাসেজ চলে আসে। গড়ে উঠে উবুন্টু ব্যবহারকারিদের
কমিউনিটি। এই কমিউনিটিই উবুন্টুর মূল শক্তি। এরাই উবুন্টুকে চালাচ্ছে,
উবুন্টুর জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন করছে, উবুন্টুর প্রচারনা চালাচ্ছে, কেউ
উবুন্টু নিয়ে সমস্যায় পড়লে সেটাকে সমাধান করার জন্য সবাই ঝাপিয়ে
পড়ছে – সবই করছে নিঃস্বার্থভাবে, সবাই যেন একটা বিশাল পরিবার। এই
পরিবারের ব্যাপ্তি সারা পৃথিবী জুড়ে। আর দিনকেদিন এর ব্যাপ্তি বেড়েই
চলেছে। লিনাক্স বেজড কোন অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল
কমিউনিটি হচ্ছে উবুন্টুর। শুধু তাইনা ডেস্কটপ ব্যবহারেও লিনাক্স বেজড
অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় উবুন্টুর ব্যবহারকারিও অনেক বেশি।


উবুন্টুর সাফল্যের ইতিহাস এখানেই শেষ না। ডেল, এইচপি, আইবিএম এর মত বড়
বড় কম্পিউটার নির্মাতা কম্পানি উবুন্টুকে বেছে নিয়েছে। গুগলের মত
জায়ান্ট কম্পানিও ব্যবহার করে উবুন্টু । তাছাড়া ফ্রেঞ্চ পুলিশ,
অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি বা অক্সফোর্ড
ইউনিভার্সিটির আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্টসহ অনেকেরই প্রথম পছন্দ এখন উবুন্টু।
উইন্ডোজ আর ম্যাক ওএসের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী হিসেবে উবুন্টু ইতিমধ্যেই
জায়গা করে নিয়েছে। ইন্টেলও উবুন্টুর সাথে কাজ করছে তাদের নতুন
প্রসেসরের চিপ ডিজাইনিং এর জন্য।


কুবুন্টু, জুবুন্টু, লুবুন্টু হচ্ছে উবুন্টু’র বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট বা
রূপভেদ। এরা সবাই আদতে উবুন্টুই কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন রূপ। এদের সবগুলোকেই
ক্যানোনিকাল তৈরি করে। এদের সবগুলোই একই সাথে রিলিজ হয়। এদের মধ্যে
পার্থক্য কেবল এদের ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট (Desktop Environment বা DE)।


ধরুন আজকে ‘আপনি‘ শার্ট প্যান্ট পড়ে বাইরে গেলেন, আর গতকালকে বের হয়েছিলেন পাজামা পাঞ্জাবি
পড়ে। বলুনতো আজকের আর গতকালকের ‘আপনার‘ মধ্যে পার্থক্য
কিসে? কেবল মাত্র পোশাকে তাইনা! কিন্তু পোশাকের ভেতরের মানুষ আপনি যেমন
ছিলেন তেমনই কিন্তু আছেন, সেখানে কোন পার্থক্য নেই। উবুন্টু আর কুবুন্টুর
পার্থক্যও একই রকম, কেবল বাইরেই ভিন্নতা ভিতরে দুটোই এক। ক্যানোনিকাল
কম্পানি যেই ওএস বানায় সেটার মূল ডিস্ট্র’র নাম হচ্ছে উবুন্টু। উবুন্টু
ব্যবহার করে “গ্নোম” নামের একটি পোশাক আর কুবুন্টু ব্যবহার করে “কেডিই”
নামের আরেকটা পোশাক।


এই পোশাকটাকে লিনাক্সে বলা হয় “ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট” বা সংক্ষেপে
“ডিই”। এরকম আরো দুটি ডিই হল এক্সএফসিই ও এলএক্সডিই। উবুন্টুর যেই
ভ্যারিয়েন্টটি এক্সএফসিই পোশাক পড়ে থাকে তাকে বলে জুবুন্টু আর যে
ভ্যারিয়েন্টটি এলএক্সডিই’র পোশাক পড়ে তার নাম লুবুন্টু।


এতটুকু পড়ে মনে হতে পারে ডিই বুঝি উইন্ডোজের স্কিনের বা থিমের মত কোন
ব্যাপার। আসলে সেটা না। উইন্ডোজের থিম পাল্টালে কিন্তু কেবল চেহারাটাই
পাল্টায়, আর কিছু না। কিন্তু লিনাক্স বেজড অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে ডিই
পাল্টালে চেহারার সাথে আরো অনেক কিছুই পাল্টে যায় (যেমন মেমরি
কনজাম্পশন, ডিফল্ট এ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদি)।


ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, ধরুন আপনি শার্ট পাল্টে পাঞ্জাবি পড়লেন, এতে
কিন্তু আপনার কিছু উপযোগিতা বেড়ে/কমে যায়। যেমন শার্টে বুকের কাছে একটা
পকেট থাকতো যেখানে আপনি পাঞ্জাবিতে কোমড়ের কাছে দুই পাশে দুটা পকেট
পাচ্ছেন। কিংবা আপনি স্যুট পড়লেন, তাহলে আপনার ব্যবহারবিধিও অনেক পাল্টে
যাবে। প্রতিটা ক্ষেত্রে আপনি কেবল পোশাক পাল্টাচ্ছেন কিন্তু সেই সাথে
আপনার অনেক কিছুও পাল্টে যাচ্ছে। ডিই’র ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটাই ঘটে। যেমন
উবুন্টুর (গ্নোমের) ডিফল্ট ফাইল ম্যানেজারের নাম হচ্ছে নটিলাস কিন্তু
কুবুন্টুর (কেডিই’র) ডিফল্ট ফাইল ম্যানেজার হচ্ছে ডলফিন। একইভাবে উবুন্টুর
(গ্নোমের) ডিফল্ট মিউজিক প্লেয়ার হচ্ছে রিদমবক্স যেখানে কুবুন্টুর
(কেডিই’র) ডিফল্ট হচ্ছে এ্যামারক। আবার মেমরি কনজাম্পশনের দিক থেকে
সবচেয়ে কম মেমরিতে চলে লুবুন্টু, লুবুন্টুর চেয়ে বেশি মেমরি নেয়
জুবুন্টু, তার চেয়ে বেশি দরকার হয় উবুন্টু চালাতে আর সবচেয়ে বেশি মেমরি
দরকার হয় কুবুন্টুর জন্য। তাই ডিই পাল্টালে শুধু চেহারাই না বরং কাজের
ধরনও খানিকটা পাল্টে যায়।


উইন্ডোজের থিমের ক্ষেত্রে কিন্তু অন্য ঘটনা ঘটে। আপনি উইন্ডোজে যে
থিমই ব্যবহার করুননা কেন (হোক সেটা এক্সপির র‍য়্যাল ব্লু থীম বা উইন্ডোজ
ক্লাসিক থীম) আপনার ফাইল ম্যানেজার কিন্তু উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারই থাকবে
কিংবা ডিফল্ট প্লেয়ার থাকবে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার। কেবল চেহারাটাই
পাল্টাচ্ছে, এখানেই হচ্ছে উইন্ডোজের থিম আর লিনাক্সের ডিই’র মধ্যে
পার্থক্য। আর পার্থক্যটা বেশ বিশাল।


আপনি উবুন্টুর যেই ভ্যারিয়েন্টই ব্যবহার করুন না কেন তাতে সব
প্রোগ্রামই চালাতে পারবেন। একটার প্রোগ্রাম আরেকটাতে চালানো সম্ভব, কোন
সমস্যা নেই। তাছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি কমান্ড ছাড়া উবুন্টুর সব কমান্ডই
বাকী সব ভ্যারিয়েন্টে কাজ করবে। লিনাক্সের জগতে এরকম প্রচুর ডিই পাবেন।
এসব ডিই’র প্রত্যেকের রয়েছে আবার নিজেদের ফ্যান (ইহা পাংখা নহে, ইহা
ভক্ত)। তাই কোনোটাকে এককভাবে প্রাধান্য দেয়া ঠিক হবেনা। তবে এদের মধ্যে
সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্নোম ও কেডিই। সিমপ্লিসিটি ও ব্যবহারবান্ধবতার জন্য
সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্নোম। আবার প্রচুর অপশন ও রূপলাবণ্যের জন্য
কেডিই’র রয়েছে বেশ নাম ডাক।


মোদ্দা কথা হচ্ছে- উবুন্টু, কুবুন্টু, জুবুন্টু, লুবুন্টু- আপনি যা-ই
ব্যবহার করেননা কেন আসলে আপনি উবুন্টুই ব্যবহার করছেন। এজন্য যখন নতুন
ভার্সনের উবুন্টু রিলিজ হয় তখন একই সাথে একই ভার্সনের অন্যান্য
ভ্যারিয়েন্টগুলোও রিলিজ হয়। তাই ব্যবহারের আগে আপনার প্রয়োজন চিন্তা করে
ব্যবহার করুন যে, কোনটি আপনার জন্য বেশি যুৎসই হবে। আর যদি নিজের প্রয়োজন
না বুঝেন তাহলেও সমস্যা নেই, ১গিগাবাইট বা তার চেয়ে বেশি মেমরি (RAM)
হলে উবুন্টু বা কুবুন্টু চালান আর ৫১২ মেগাবাইটের কম হলে জুবুন্টু বা
লুবুন্টু চালান। তবে ৫১২ মেগাবাইটেও অনেকে উবুন্টু ও কুবুন্টু চালিয়েছেন।
তবে চালাবার আগে দয়া করে এদের সাইট থেকে এদের চালানোর জন্য পিসির
মিনিমাম রিকোয়্যারমেন্ট দেখে নেবেন। যাই হোক, বুন্টু ব্যাটেলিয়ন আপনার
পিসিতে দৌড়ানোর জন্য অপেক্ষা করছে। তাই বুন্টু ব্যাটেলিয়নের কোন সদস্যকে
বেছে নেবেন- সেটা পছন্দ করা আপনার পালা।